অর্থনৈতিক অবস্থা

সিরাজগঞ্জ জেলার অর্থনৈতিক অবস্থা যথেষ্ট সমৃদ্ধ এবং সম্ভাবনাময়। এখানকার জনসাধারণের আয়ের প্রধান উৎসসমূহ হচ্ছে কৃষি, তাঁতশিল্প, বস্ত্রশিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য, মৎস্য চাষ, দুগ্ধশিল্প, মৃৎশিল্প, কুটির শিল্প ইত্যাদি। জনসাধারণের প্রায় সকলেই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির উপর নির্ভরশীল। এছাড়া তাঁত সমৃদ্ধ হওয়ায় জেলার প্রায় সকল উপজেলাতেই বিপুল পরিমাণে তাঁত বস্ত্র উৎপাদন হয়। এ সকল তাঁত শিল্পের সাথে জড়িত সূতা ও বস্ত্র কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে এ জেলায় বিরাট অংকের আর্থিক লেনদেন সংঘটিত হয়। বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ দুগ্ধ ও দুগ্ধজাতপণ্য উৎপাদন কারখানা মিল্কভিটা এ জেলায় অবস্থিত। এ কারখানাকে কেন্দ্র করে বিপুল সংখ্যক গবাদি পশু পালন করা হয়। যার সাথে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জনগোষ্ঠির জীবন জীবিকা জড়িত। এ জেলার শাহজাদপুর উপজেলায় বাঘাবাড়ি নৌ-বন্দর অবস্থিত। সেখানে ভাসমান বিদ্যুৎ কেন্দ্র, সিমেন্ট কারখানাসহ পেট্রোলিয়াম জাতীয় পদার্থের ডিপো অবস্থিত। এসকল স্থাপনায় ব্যাপক সংখ্যক শ্রমিক নিয়োজিত থেকে তাদের জীবন জীবিকা নির্বাহ করছে। যমুনা নদী ও চলনবিল অধ্যূষিত এ জেলায় বিপুল সংখ্যক বড় বড় আকারে দীঘি ও পুকুর বিদ্যমান। ফলে জনসংখ্যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ মৎস্য চাষ, আহরণ, ক্রয়-বিক্রয় এর মাধ্যমে তাদের জীবন জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। সব মিলিয়ে এ জেলার জনসাধারণের জীবন জীবিকা বৈচিত্র্যময় তবে জেলার ৫টি উপজেলা নদীর তীরবর্তী হওয়ায় এবং সে সকল উপজেলার ২০টির মত ইউনিয়ন নদীর চরাঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় নদীর তীরবর্তী ও চরাঞ্চলের এ সকল লোকজন প্রতি বছরই নদী ভাঙ্গন ও বন্যার সম্মুখীন হয়। ফলে নদী ভাঙ্গন, বন্যা, খরা ইত্যাদি প্রাকৃতিক দূর্যোগ এ জেলার জনসাধারনের নিত্যসঙ্গী। এ সকলের ভারে এ এলাকার জনসাধারণ জর্জরিত। ফলে জনসংখ্যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ দরিদ্র ও বেকার।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.