১৩বছর পর সিরাজগঞ্জে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, উন্নয়নের নানা ঘোষণা

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা প্রায় ১৩বছর পর সিরাজগঞ্জ সফরে এসে জেলার উন্নয়নে নানা ঘোষণা দিয়েছেন। জেলাবাসী প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে উন্নয়নের এসব ঘোষণা পেয়ে দারুণ খুশী।

৯ এপ্রিল শনিবার দুপুরে ১দিনের সরকারি সফরে হেলিকপ্টারযোগে সিরাজগঞ্জে আসেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বন্ধ থাকা সিরাজগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী কওমী জুট মিলের, জেলার সয়দাবাদে ১৫০ মেঃ ওয়াট পিকিং পাওয়ার প্লান্ট নির্মাণ প্রকল্পের কাজ ও সয়দাবাদ-এনায়েতপুর সড়ক সম্প্রসারণ কাজের ্আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। এছাড়া তিনি এবং বিকেলে সিরাজগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ মাঠে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিশাল সমাবেশে ভাষণ দেন। প্রতিটি কর্মসূচিতেই তিনি সিরাজগঞ্জের উন্নয়ন নিয়ে কথা বলেন।

জেলাবাসীর দাবি-দাওয়ার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জেলার কাজিপুর থেকে শহর পর্যন্ত ও বগুড়ার সারিয়াকান্দি থেকে কাজিপুর পর্যন্ত যমুনার ভাঙ্গনরোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হবে। বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ হয়ে ঢাকা পর্যন্ত ট্রেন চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি সিরাজগঞ্জ থেকে উঠে যাওয়া আন্ত:নগর ট্রেনগুলো সিরাজগঞ্জ থেকে পুনরায় চালু করা হবে। একইভাবে মিল্কভিটা প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমের সম্প্রসারণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, জেলার দরিদ্র ছেলেমেয়েদের জন্য ফুড ফর এডুকেশন চালু করা হবে। যুবকদের জন্য মেরিন টেকনোলজি ইনস্টিটিউট, কারিগরি শিক্ষা ইনস্টিটিউট গড়ে তোলা হবে। শিল্পপাক স্থাপনের প্রক্রিয়া এরইমধ্যে শুরু করা হয়েছে এবং এই সরকারের আমলেই এটা শেষ করা হবে। এসময় আদালত ভবন তৈরি করার ঘোষণাও দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশ পরিণত হয় এক জনসমুদ্রে। উন্নয়নের নানা ঘোষণসহ প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক বিষয় নিয়েও কথা বলেন। সমাবেশে তিনি বলেন, নৌকা মার্কায় ভোট দিলে জনগণ কিছু পায়, বিএনপি ক্ষমতায় আসলেই লুটপাট শুরু হয়। দূর্নীতি ও সন্ত্রাস করতে না পারায় খালেদা জিয়ার মাথা খারাপ হয়ে গেছে। ক্ষমতায় থাকাকালে দলটি দূর্নীতি, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস কায়েম করে কালো টাকা সাদা করে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। এখন সে সুযোগও নেই, ক্ষমতাও নেই। তাই তিনি আবোল-তাবোল বকছেন।

তিনি বিরোধী দলীয় নেতাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তার স্বামীর রেখে যাওয়া ভাঙ্গা স্যুটকেস ও ছেড়া গেঞ্জি কি করে বিলাসবহুল অট্টালিকায় পরিনত হলো? বিরোধী দল কথায় কথায় সংবিধান লংঘনের কথা বলেন, অথচ তার স্বামী অবৈধভাবে সামরিক শাসন জারি করে রাতের অন্ধকারে যখন ক্ষমতায় এসেছিলেন। এমনকি ক্ষমতায় থেকেই রাজনৈতিক দল গঠন করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে তার সরকারের নেওয়া নানা উন্নয়ন কর্মকা- তুলে ধরেন। পাশাপাশি কৃষকদের জন্য নানা প্রদক্ষেপ, জনগণের দোরগড়ায় স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছাতে কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন, শিক্ষাক্ষেত্রে নানা অগ্রগতি কথাও বলেন তিনি।

নারী নীতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, খালেদা জিয়া নিজে নারী হয়ে নারী-নীতির বিরোধীতা করছেন। আওয়ামী লীগ কখনও কুরআন-সুন্নাহার বিরোধিতা করে না। নারী উন্নয়ন নীতিমালা নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় করা হয়েছে। জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে ওই সমাবেশে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর সংস্থাপন বিষয়ক উপদেষ্টা এইচ.টি.ইমাম, মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিশ্বাস, সাবেক সরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, যোগাযোগ মন্ত্রী সৈয়দ মোঃ আবুল হোসেন, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, প্রধানমন্ত্রীর ব্যাক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডাঃ হাবিবে মিল্লাত মুন্না, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কে.এম. হোসেন আলী হাসান, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়্যারম্যান আবু মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া, সোনালী ব্যাংকের পরিচালক জান্নাত আরা তালুকদার হেনরী প্রমূখ ।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিমে সয়দাবাদ থেকে সিরাজগঞ্জ শহর পর্যন্ত বিপুল সংখ্যক তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া নানা রং-বেরং’র ব্যানার ও ফেস্টুন দিয়ে সাজানো হয় পুরো শহরকে। রাস্তার দু’পাশে দাড়িয়ে থাকা জেলার বিভিন্ন স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী, নেতা-কর্মী ও সাধারণ জনগণ ফুল দিয়ে বরণ করে নেন প্রধানমন্ত্রীকে।

@এএল/টিএস/এপ্রিল ০৯, ২০১১

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.