সিরাজগঞ্জে ডাক্তারকে জবাই, জড়িতদের শাস্তির দাবিতে চিকিৎসকদের আল্টিমেটাম

সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ডা. আবদুল বাকী মির্জাকে (৪০) গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের কাছে সরকারি ডরমেটরি বিল্ডিংয়ের ২য় তলায় তার ব্যবহার করা ৮নং রুমে গলা কেটে হত্যা করা হয়। শনিবার(এপ্রিল ১৬, ২০১১) দুপুর ৩টার দিকে পুলিশ এ ডাক্তারের লাশ উদ্ধার করে সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

২০০৭ সালে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে মেডিক্যাল অফিসার হিসেবে যোগ দেন। তার গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার রূপপুর গ্রামে। তার স্ত্রী ঢাকার মহাখালীতে অবস্থিত মেট্রোপলিটন ক্লিনিকের গাইনি বিভাগে কর্মরত। তার একটি মেয়ে রয়েছে। স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করতেন তিনি ।

পুলিশ সূত্র জানায়, গতকাল দুপুর ২টার দিকে উল্লাপাড়া হামিদা পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী ও ডাক্তারের দূরসম্পর্কীয় ছোট বোন এশা ডরমটেরিতে এসে ডা. আবদুল বাকী মির্জাকে মোবাইল ফোনে না পেয়ে ডরমিটরিতে আসে।   এ সময় কক্ষটি বাইরে থেকে আটকানো অবস্থায় ছিল। পরে পার্শ্ববর্তী কক্ষে বসবাসরত সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার কার্যালয়ে কর্মরত রিডার সোহরাব ও ওই ছাত্রী দরজা খোলার পর দেখতে পান মেঝেতে ডাক্তারের রক্তাক্ত লাশ পড়ে আছে।

সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার মোশারফ হোসেন জানান, এখন পর্যন্ত হত্যাকা-ের কোনো কারণ জানা যায়নি। তবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। খুঁজতে আসা তার বোন এশা ও ডরমেটরিতে কর্মরত দুই কাজের বুয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
 হত্যাকা-ে ব্যবহৃত দাসহ কিছু আলামত জব্দ করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

সংবাদ পেয়ে তাৎক্ষণিক সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোশারফ হোসেন, ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. আবদুর রাজ্জাক, র‌্যাব-১২ এর স্পেশাল কোম্পানি কমান্ডার এএসপি শহিদ উল্লাহ্ ও বিএমএর সভাপতি ডা. জহুহুল হক রাজা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

জেলার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. আবদুর রাজ্জাক জানান, ডা. আবদুল বাকী মির্জা শুক্রবার ১২টা পর্যন্ত হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করেছেন। তারপর থেকে তার সঙ্গে হাসপাতালের কারও কোনো যোগাযোগ হয়নি।

এদিকে ডা. বাকী মির্জার হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্থানীয় প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের(বিএমএ) সিরাজগঞ্জ জেলা শাখা।
 
সংগঠনের জেলা সভাপতি ডা. জহুরুল হক রাজার নেতৃত্বে কয়েকশ‘ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী রোববার দুপুর ১২টার দিকে  জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে স্মারকলিপির মাধ্যমে এই আলটিমেটাম দেন।

ডা. রাজা জানান, আলটিমেটাম অনুযায়ী প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে তারা জেলায় সব সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রে কর্মবিরতি পালন করবেন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.